মাইক্রোসফট এর সাতকাহন – পর্ব ৩ (মাইক্রোসফট এর সেকাল একাল)


শুরুর ঘটনাঃ

মাইক্রোসফট পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কম্পিউটার সফটওয়ার প্রস্তুতকারী কম্পানী। এবং এটি সবচেয়ে পুরনো সফটওয়ার কম্পানীগুলোরও একটি।
মাইক্রোসফট এর শুরু হয় ১৯৭৫ সালে আমেরিকার নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আলবাকার্কি শহরে। যদিও মাইক্রোসফট এর মূল প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এর বাড়ি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে (যেখানে মাইক্রোসফট এর বর্তমান প্রধান অফিস), তিনি এর শুরুটা করেন প্রায় পনের’শ মাইল দূরের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি শহরে। এর কারণ হচ্ছে মাইক্রোসফট এর প্রথম সফটওয়ারটি ছিলো আসলে একটি BASIC ইন্টারপ্রিটার যেটা প্রথমে কাজ করতো আল্টেয়ার নামক একটি কম্পিউটারএ। আল্টেয়ার এর অফিস ছিলো নিউ মেক্সিকোতে। বিল গেটস ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এর লেখাপড়া ছেড়ে নিউ মেক্সিকো চলে যান আল্টেয়ার এর মালিক কম্পানীকে তার ইন্টারপ্রিটার কেনার জন্য রাজী করাতে। আল্টেয়ার এর মালিক ইন্টারপ্রিটারটি কিনতে রাজী হওয়ার পর গেটস সেখানেই মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন তার বন্ধু পল অ্যালেনকে সাথে নিয়ে। আমার ধারণা বিল গেটস তখনো ভাবতে পারেননি তার এই কম্পানীটি একদিন পৃথিবীর সভ্যতার তথ্য যুগে প্রবেশএ একটা বড় ভূমিকা রাখবে।

সফটওয়ার সাম্রাজ্যঃ

চৌত্রিশ বছর পর আজ ২০০৯ সালে এসে মাইক্রোসফট হয়ে উঠেছে এক প্রযুক্তি সাম্রাজ্য। কিছু হার্ডওয়ার বাদ দিলে কম্পিউটারের এমন কোনো দিক নেই যেটা তারা প্রস্তুত করে না। বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম, সর্বাধিক ব্যবহৃত অফিস প্রডাক্টিভিটি সফটওয়ার, সর্বাধিক ব্যবহৃত চ্যাট মেসেঞ্জার, সর্বাধিক ব্যবহৃত ওয়েব ইমেইল, সর্বাধিক ব্যবহৃত ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট ইত্যাদি ছাড়াও অন্যান্য অসংখ্য সফটওয়ার পণ্য আছে মাইক্রোসফট এর যেগুলো প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে সারা পৃথিবীর কোটি কোটি কম্পিউটারএ। মাইক্রোসফট এর মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৯৫,০০০। এর একটা বড় অংশ হচ্ছে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ড শহরের বিশাল এক এলাকা জুড়ে মাইক্রোসফট এর অফিস। প্রায় এক’শ এর মতো বিল্ডিং জুড়ে চলে এর কাজকর্ম। কম্পানীর ইঞ্জিনিয়ারিং কাজকর্ম করা হয় পাঁচটি বড় ডিভিশন এর মাধ্যমে – উইন্ডোজ এবং উইন্ডোজ লাইভ ডিভিশন, অনলাইন সার্ভিসেস ডিভিশন, ডিভাইস এবং এন্টারটেইন্টমেন্ট ডিভিশন, মাইক্রোসফট বিজনেস ডিভিশন, এবং সার্ভার এবং টুলস ডিভিশন। এছাড়াও আইন, এইচআর, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স ইত্যাদি আরো অনেক গ্রুপ তো আছেই।

প্রত্যেকটি ডিভিশন এর রয়েছে একজন প্রেসিডেন্ট যারা সরাসরি সিইও স্টিভ বালমার এর কাছে রিপোর্ট করেন। উইন্ডোজ এবং উইন্ডোজ লাইভ ডিভিশন কাজ করে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং এর অনলাইন ফিচার নিয়ে। উইন্ডোজকে বলা হয় মাইক্রোসফট এর ফ্ল্যাগশিপ পণ্য। মাইক্রোসফট এর সবচেয়ে বেশি আয় হয় এর মাধ্যমে। ২০০৭ সালের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা কম্পিউটার এর সংখ্যা এক বিলিয়ন হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে রাস্তাঘাটে যতো কার চলাচল করে তার চেয়ে বেশি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম চলে দুনিয়াজোড়া কম্পিউটারগুলোতে। বিজনেস ডিভিশন এর পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট অফিস (ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল ইত্যাদি), সার্ভার ডিভিশন এর প্রধান পণ্যগুলো হচ্ছে উইন্ডোজ সার্ভার, এসকিউএল সার্ভার, ডট নেট ইত্যাদি। অনলাইন সার্ভিসেস এর প্রধান পণ্য (বা সেবা) হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন বিং, অনলাইন পোর্টাল এমএসএন ইত্যাদি। ডিভাইস এবং এন্টারটেইনমেন্ট ডিভিশন এর প্রধান পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আইপড এর প্রতিদ্বন্ধী জুন মিউজিক প্লেয়ার, উইন্ডোজ মোবাইল, এক্সবক্স গেইম কনসোল ইত্যাদি। এই ডিভিশনগুলির প্রত্যকটিই অন্য অনেক স্বয়ংসম্পূর্ণ কম্পানীর চেয়ে অনেক বড়।

মাইক্রোসফট এর রয়েছে বিশাল গবেষণা গ্রুপ। “মাইক্রোসফট রিসার্চ” হচ্ছে কম্পিউটার বিজ্ঞান এর সবচেয়ে নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। ২০০৯ সালে এর বাজেট এর পরিমাণ ছিলো ৯ বিলিয়ন ডলার এর বেশি! গবেষণার পেছনে এ পরিমাণ টাকা পৃথিবীর খুব কম্পানীই খরচ করে। এমনকি গতো এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও মাইক্রোসফট তার গবেষণা বরাদ্দ কমায়নি। এখানে কাজ করেছেন এবং করছেন টুরিং এবং ফিল্ডস মেডাল প্রাপ্ত বিজ্ঞানীরা!

মাইক্রোসফট এর অফিসগুলিকে চিহ্নিত করা হয় নাম্বার দিয়ে (ইদানিং অবশ্য এই রীতি থেকে বের হয়ে এসে অন্যান্য নাম দিয়েও বিল্ডিং চিহ্নিত করা হচ্ছে)। সাধারণত একই ডিভিশন এর বিল্ডিংগুলো কাছাকাছি থাকে। আমাদের উইন্ডোজ ডিভিশনের অফিসগুলো বেশির ভাগই বিল্ডিং ২৬, ২৭, ২৮, এবং ৩৭ এ অবস্থিত। তবে অন্যান্য বিল্ডিংএও উইন্ডোজ এর অফিস আছে। মাইক্রোসফট এর অফিসগুলো সাধারণত দরজাওয়ালা ব্যক্তিগত অফিস রুম টাইপের। কিউবিকল অফিস মাইক্রোসফটএ নাই বললেই চলে। আমি এখানকার অনেকের সাথেই এটা নিয়ে কথা বলেছি, এবং প্রায় সবাই বলেছে যে প্রোগ্রামিং কাজের জন্য কিউবিকলের চেয়ে ব্যক্তিগত অফিস রুমই ভালো। প্রত্যেক রুমেই থাকে কমপক্ষে দুটি সাদা বোর্ড, এক বা একাধিক বইএর সেলফ, এবং অফিস ডেস্ক। কিউবিকলে এই সাদা বোর্ড টানানোর সুবিধা থাকেনা। যেকোনো ধরণের ডিজাইন আলোচনার জন্য সাদা বোর্ডের বিকল্প নেই। এখানকার যে কারো অফিস রুমে ঢুকলেই অবধারিতভাবে সাদা বোর্ডটিতে নানারকম ফ্লোচার্ট কিংবা কোড দেখা যাবেই। অনেক বিল্ডিংএ রুম এর বাইরে করিডোরএও সাদা বোর্ড থাকে। কিংবা চা-কফি খাওয়ার, আড্ডা দেওয়ার জায়গাটিতেও সাদা বোর্ড থাকে। এর ফলে যে কোনো অবস্থাতেই ইঞ্জিনিয়াররা কোনো আইডিয়া কিংবা ডিজাইন নিয়ে ততক্ষণাৎ একটা ব্রেইন স্টর্মিং করতে পারে।

বহুমাত্রিক যুদ্ধঃ

বহু ধরণের সফটওয়ার পণ্য থাকার কারণে মাইক্রোসফটকে বহুমুখী যুদ্ধ করতে হচ্ছে দুনিয়ার সেরা সব কম্পানীর সাথে। মাইক্রোসফট এর চির প্রতিদ্বন্ধী হচ্ছে স্টিভ জবস এর অ্যাপল। অ্যাপল এর পণ্য সমূহের নয়নাভিরাম এবং নিখুঁত ডিজাইন এর জন্য কম্পিউটার মার্কেট এর বিশাল একটা অংশ দখল করে নিয়েছে। এবং এই অংশ দিন দিন বাড়ছে। অ্যাপল এর সম্প্রসারণশীল বাজার মাইক্রোসফটকে যারপরনাই ভাবাচ্ছে। এ যুদ্ধে সর্বশেষ সংযোজন বিজ্ঞাপন যুদ্ধ । অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট উভয়েই একে অপরকে সরাসরি আক্রমন করে বিজ্ঞাপন বানিয়ে প্রচার করছে সম্প্রতি। উইন্ডোজ এর আরেক প্রতিদ্বন্ধী ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স। যদিও বাজার দখলের দিক থেকে লিনাক্স এখনো অনেক পিছিয়ে উইন্ডোজ কিংবা অ্যাপল এর থেকে। কিন্তু লিনাক্স এর উৎসাহীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় মাইক্রোসফট এর শংকা একেবারে কম নয়।

সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট এর দিক থেকে মাইক্রোসফট এর মূল প্রতিদ্বন্ধী জাভা প্রস্তুতকারী সান কর্পোরেশন (সম্প্রতি ওরাকল সানকে কিনে নিয়েছে)। মাইক্রোসফট এর ভিজুয়াল স্টুডিও নির্ভর ডট নেট ডেভেলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট এর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সান এর জাভা প্লাটফর্ম। ডেটাবেজ এর দিক থেকে মাইক্রোসফট এর এসকিউএল সার্ভার এর শক্ত প্রতিদ্বন্ধী হচ্ছে ওরাকল এর ওরাকল ডেটাবেজ এবং আইবিএম এর ডিবি২ ডেটাবেজ সিস্টেম।

কিন্তু সব প্রতিদ্বন্ধীকে ছাড়িয়ে ইন্টারনেট যুগে মাইক্রোসফট এর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্ধী হচ্ছে গুগল। গুগল এর ব্যবসার ধরণ, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং মেধা, মাইক্রোসফট এর চেয়ে বেশি ইন্টারনেটভিত্তিক পণ্য এবং সেবায় বিনিয়োগ করা ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে গুগল হয়ে দাঁড়িয়েছে মাইক্রোসফট এর ইতিহাসে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্ধী। মাইক্রোসফট ইন্টারনেট এর গুরুত্ম অনেক আগে বুঝলেও এতে বিনিয়োগ করতে অনেক দেরি করে ফেলে। গুগল যেখানে ১৯৯৮ সালে সার্চ নিয়ে কাজ শুরু করে, মাইক্রোসফট সেখানে সত্যিকারের সার্চ নিয়ে আসে ২০০৬ সালে (“লাইভ” সার্চ নাম নিয়ে)। এতো দেরীতে শুরু করার ফল মাইক্রোসফটকে হাড়ে হাড়ে দিতে হচ্ছে – সার্চ এর বাজার দখলের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট গুগল থেকে যোজন যোজন পিছিয়ে!

সিইও স্টিভ বালমার ভালো করেই জানেন দিন দিন মানুষ ইন্টারনেটএ বেশি বেশি সময় ব্যয় করছে এবং ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপনের পরিমাণও প্রতি বছর বাড়ছে দ্রুত গতিতে। তাই ইন্টারনেটেও মাইক্রোসফটকে ভালো করতে হবে। সার্চ হচ্ছে ইন্টারনেটএ প্রবেশদ্বার। তাই সার্চ এর শক্ত খেলোয়াড় হওয়ার জন্য মাইক্রোসফট মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে বিং. একই সাথে সার্চএ দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইয়াহুকে কিনে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালায় মাইক্রোসফট। গতো বছর পুরো ইয়াহুকে কিনতে না পেরে এখন ইয়াহু এর সার্চ অংশটুকু কিনতে আগ্রহী মাইক্রোসফট। দেখা যাক গুগলকে মোকাবেলার মাইক্রোসফট এর এই চেষ্টা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

অ্যাপল, সান, ওরাকল, লিনাক্স, গুগল ইত্যাদি ছাড়াও আরো অসংখ্য ছোটবড় কম্পানী এবং পণ্য এর সাথে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হচ্ছে মাইক্রোসফটকে। সিসকো এর সাথে কমিউনিকেশন সফটওয়ার নিয়ে, ভিএমওয়ার এর সাথে ভার্চুয়াল অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে, অ্যামাজন এবং সেলসফোর্সের সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছেই!

বিল গেটস এবং স্টিভ বালমারঃ

২০০৮ সালের জুন পর্যন্ত কম্পানীর প্রধান ছিলেন চেয়ারম্যান বিল গেটস। কিন্তু তারপর থেকে তিনি অবসরে যাওয়ার কারণে সিইও স্টিভ বালমার এখন মাইক্রোসফট এর প্রধান কর্ণধার। বিল গেটস এখনো চেয়ারম্যান, কিন্তু তিনি এখন আর পুরো কম্পানীর দায়িত্বে নেই। তিনি শুধু মাত্র উইন্ডোজ এবং সার্চ এর মতো দুএকটি প্রধান পণ্য এর সাথে পরামর্শদাতা হিসেবে জড়িত থাকেন। বিল গেটস এখন মূলত তার বিল এন্ড মেলিন্ড গেটস ফাউন্ডেশন নিয়ে ব্যস্ত। তার ফাউন্ডেশনটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বিল গেটস তার বন্ধু স্টিভ বালমারকে মাইক্রোসফটএ নিয়ে আসেন ১৯৮০ সালে। ২০০০ সালে বিল গেটস সিইও পদ থেকে সরে গিয়ে স্টিভ বালমারকে সে পদে নিয়োগ দেন। বিল গেটস হচ্ছে মাইক্রোসফট এর টেকনিকাল গুরু আর স্টিভ বালমার হচ্ছেন মার্কেটিং গুরু। তবে অনেকেই মনে করেন স্টিভ বালমার মাইক্রোসফটকে বিল গেটস এর মতো ভালোভাবে পরিচালিত করতে পারছেননা।

বিল গেটস এর প্রথম দিককার মন্ত্র ছিলো “বিশ্বের প্রতিটি ডেস্কে একটি করে কম্পিউটার যেটিতে মাইক্রোসফট এর সফটওয়ার চলবে”। বলা যায়, গেটস তার এ স্বপ্ন পূরণে মোটামুটি সার্থক হয়েছেন। ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাইক্রোসফটকে একটু একটু করে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য বিল গেটস এবং তার বিশাল কর্মী বাহিনী অবশ্যই কৃতিত্বের দাবীদার। তাদের এই ক্রমাগত প্রযুক্তি আবিষ্কার আর উদ্ভাবন তথ্য প্রযুক্তিকে দিন দিন আরো সমৃদ্ধ করছে, মানুষের জীবনকে করছে আরো আরামদায়ক।

2 thoughts on “মাইক্রোসফট এর সাতকাহন – পর্ব ৩ (মাইক্রোসফট এর সেকাল একাল)

  1. saiful103a says:

    bhaia i’va read all the parts.awesome…

  2. bilash says:

    Thanks Saiful!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: